সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে অতি দ্রুতই দেশে ফেরত আনা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এদিকে, নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য ঘিরে সংসদে হৈ চৈ ও উত্তেজনা হয়েছে।
সরাসরি কভারেজ
রোববার সারাদিন যা যা হলো
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বেনজীর আহমেদকে অতি দ্রুতই দেশে ফেরত আনা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সাবেক আইজিপির গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করেন।
ঢাকায় পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট।
সম্প্রতি ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতার নিখোঁজ ও আত্মগোপনের অভিযোগ, পরবর্তীতে তাকে পুলিশের উদ্ধার, এবং সবশেষে ওই নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার মামলা দায়েরের ঘটনা নিয়ে আলোচনা সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির পর তা নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতায় এ সময় সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত ‘পুশ ইনের’ নামে ভারতীয়দেরই অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নজীরবিহীন নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতারা।
বাংলাদেশের এইচএসসি লেভেল সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমমানের বলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য ঘিরে সংসদে হৈ চৈ ও উত্তেজনা হয়েছে। তখন বিরোধী দলের আপত্তির মুখে ওই সংক্রান্ত বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হয়।
বিবিসি বাংলা'র লাইভ পাতায় সাথে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আরও খবর ও বিশ্লেষণ জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার মূল পাতায়।
নারী সদস্যদের পোশাক নিয়ে মনিরুল হকের মন্তব্যে সংসদে উত্তেজনা, পরে এক্সপাঞ্জ
ছবির উৎস, SCREEN GRAB
ছবির ক্যাপশান, সংসদে মনিরুল হক চৌধুরী
নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্য ঘিরে সংসদে হৈ চৈ ও উত্তেজনা হয়েছে। তখন বিরোধী দলের আপত্তির মুখে ওই সংক্রান্ত বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হয়।
তিনি ২০০৪ সালে সংসদ সদস্য
হওয়ার পরের এক দাওয়াত অনুষ্ঠঅনের উদাহরণ তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “আপনাদেরকে
চেনা খুব কঠিন। এই কারনে কঠিন, খন্দকার মোশাররফ সাহেব আছে। ২০০৪ সালে তাহের ভাইসহ
এমপি হওয়ার পরে, উনি মন্ত্রী হওয়ার পরে আমাদের সব এমপিদেরকে দাওয়াত দিছেন বউ নিয়া।
আমি বউ নিয়া যাই নাই, কয়েকজন বউ নিয়া যায় নাই। তাহের ভাই বউ নিয়া গেছে। ঢুকার পর
দেখি একটা কিছু হাঁটতেছে। আমি বললাম যে, তাহের ভাই ভাবি কই। উনি বলেন, “এই যে। আমি বলি আপনে যে বদলায়া আনেন নাই এইটা কেমনে
বুঝমু”।
এই সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর দুইজন
নারী সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রশংসা করেন। কিন্তু তাদের পোশাকের কারণে
তাদের চিহ্নিত করতে পারছেন না, এমন বিষয় উল্লেখ করেন মনিরুল হক চৌধুরী।
“মাননীয় স্পিকার, আমাদের
হাউজেও আমাদের বোনেরা এসেছে এমপি হইয়া। আপনি অভিনন্দন জানাইছেন, আমিও অভিনন্দন
জানাইতে চাই, সবাই মেধাবী। দুইজনের বক্তৃতা শুনছি। আগামী দিনে কিছু করতে পারবে, ভবিষ্যত
আছে, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম নাতো কারা আপনারা। ভেতরে কে? আপনারা এইদিকে
দেখতে পারেন, আমরা এইদিকে দেখলে কী আছে বুঝবো না, এটা ঠিক নাতো” বলেন মি.
চৌধুরী।
এই কথার পরপরই ডেপুটি
স্পিকার তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাননীয় সদস্য প্লিজ পারসোনাল ফ্রিডম নিয়ে কথা
বলা উচিত না।”
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর
সংসদ সদস্যরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন এবং তখন হৈ চৈ হয় ও হট্টগোলের পরিবেশ তৈরি হয়।
ডেপুটি স্পিকার তাদেরকে
বসার অনুরোধ করেন।
সে সময় মি. হক বারংবার
তিনি কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলেননি বরং অতীতের একটি ঘটনার গল্প বলেছেন বলে দাবি
করতে থাকেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার
কামাল সবাইকে বসার অনুরোধ করেন আবারো।
এই সময় মি. হককে লক্ষ্য
করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আপনি পারসোনাল
ফ্রিডম নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন এই অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করা হলো।”
কেউ যাতে ভবিষ্যতে পারসোনাল
ফ্রিডম নিয়ে কথা না বলেন, সেজন্য সতর্ক করেন ডেপুটি স্পিকার মি. কামাল।
বাংলাদেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমান: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ছবির উৎস, SCREEN GRAB
ছবির ক্যাপশান, সংসদে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ
বাংলাদেশের এইচএসসি লেভেল
সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমমানের বলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রোববার সংসদে তিনি বলেন,
বিএনপি সরকার সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রেখেছে শিক্ষা খাতে। প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা
অনেক জায়গায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পাস করতে পারে না বলে উল্লেখ করেন
তিনি।
“বিগত ২০ বছর ধরে প্রাথমিক
শিক্ষায় ও গণশিক্ষায় আমরা যেই লেভেলের অরাজকতা দেখেছি, সেটা এখন পরিষ্কার যে, আমাদের
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা দিতে যেয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা পাস করতে পারে না
অনেক জায়গায়” বলেন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
একইসঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চ
মাধ্যমিক বা এইচএসসি পর্যায় সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমমানের বলেও মন্তব্য করেন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
“আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ
সিঙ্গাপুরে আমাদের এইচএসসি লেভেলকে তাদের সমসমান ক্লাস সিক্সের লেভেলের সাথে তুলনা
করা হয়। সেই জায়গা থেকে আমাদের দায়িত্ব এই জাতিগত ইনভেস্টমেন্টটা ঢালাওভাবে সাজানো”
বলেন মি. হাজ্জাজ।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে
প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষক নিয়োগসহ সব ক্ষেত্রে ঢেলে সাজাতে সরকার হাত
দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সীমান্তে 'পুশ ইনের' চেষ্টার বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের প্রতিবাদ সমাবেশ
ছবির উৎস, Bnp Media Cell
ছবির ক্যাপশান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশ
বাংলাদেশের বিভিন্ন
সীমান্ত দিয়ে ভারত ‘পুশ ইনের’ নামে ভারতীয়দেরই
অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে নজীরবিহীন নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা
দলের নেতারা।
দলটির নেতারা বলছেন, এই কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।
রোববার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয়
প্রেস ক্লাব এর সামনে এক মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ কথা বলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা
দলের নেতারা।
সভাপতির বক্তব্যে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন,
এই প্রথমবারের মতো ভারত একজন প্রবীন রাজনীতিবিদকে কিছু দিন পূর্বে বাংলাদেশের হাই কমিশনার
করে পাঠিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেই বলেছেন, আমরা এক অভিন্ন এবং উনি সুন্দর সুন্দর
বক্তব্য রাখছেন, অথচ বাংলাদেশের কুখ্যাত রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দিয়ে
রেখেছেন- যা বাংলাদেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না।
তিনি হতদরিদ্র নিরীহ ভারতীয়দের ‘পুশ ইন’
বন্ধ করার আহ্বান জানান।
ছাত্রশিবির নেতার বিরুদ্ধে 'আত্মগোপন ও ধর্ষণের' অভিযোগ নিয়ে সংসদে তুমুল উত্তেজনা
ছবির উৎস, Screen Grab
ছবির ক্যাপশান, রোববার জাতীয় সংসদে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
সম্প্রতি ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতার নিখোঁজ ও আত্মগোপনের অভিযোগ, পরবর্তীতে তাকে পুলিশের উদ্ধার, এবং সবশেষে ওই নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার মামলা দায়েরের ঘটনা নিয়ে আলোচনা সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে।
রোববার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে কুমিল্লায় ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা মো. জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ এবং ধর্ষণের অভিযোগে হওয়া মামলার বিষয়টি জাতীয়
সংসদকে অবহিত করেন।
বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর বিরোধিতায় এ সময় সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
দুপুরে সংসদ অধিবেশন শুরু হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মি. আহমদ ৩০০ বিধিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের খবর জানান।
ওই বক্তব্যের পরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মি. প্রধানের বিষয়টি সংসদে জানানোর অনুমতি চাইলে ডেপুটি স্পিকার তাকে অনুমতি দেন।
শিবির নেতা মি. প্রধান বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একজন নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করলে তিনি অন্তস্বত্তা হয়ে পড়েন বলে কুমিল্লার পুলিশের বরাত দিয়ে সংসদে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "কিন্তু একপর্যায়ে ওই নারীকে জোরপূর্বক ভ্রুণ নষ্ট করার চাপ প্রয়োগ করে মি. প্রধান এবং নষ্ট না করলে মেয়েটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
পরে ট্যাবলেট খাইয়ে ওই ভ্রুণ নষ্ট করা হয়। কিন্তু ওই নারী শিবির নেতা মি. প্রধানকে বারবার বিয়ের জন্য চাপ দিলে রাজীও হন তিনি।"
"একপর্যায়ে ১১ই জুন শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান আত্মগোপন করে চাচাতো ভাইকে দিয়ে থানায় নিখোঁজ জিডি করান।"
সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এ ঘটনায় ওই নারীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত সজীব হাসান ও সেকান্দার আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুরো ঘটনাটির বর্ণনা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তার ফেসবুকে দেয়া পোস্টের কথা উল্লেখ করেন।
“এ বিষয়ে অনেকেই ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে তার নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ী করতে চেয়েছিল এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পরে সেটা আমরা মনে করলাম এই ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার। আমি মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এইটা প্রকাশ করলাম” বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শিবির নেতা মি. প্রধানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলছে বলে কুমিল্লা জেলা পুলিশের বরাত দিয়ে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমি দলের নাম নিতাম না, যেহেতু এটার বিষয়ে কিছু ক্লেইম করা হয়েছে সেইজন্য নিচ্ছি।”
স্বরাষ্টমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি সংসদে বলেন, “ভেরি আনফরচুনেট থিং হচ্ছে, এই আমার জানা নাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তী পর্যায়ে একটি আনডিসাইডেড ম্যাটারকে বিতর্কিত বিষয়কে পার্লামেন্টে এরকম বক্তব্য রাখা..কোন একটি দলকে করে..এইটা বোধ হয় পার্লামেন্টের ইতিহাসে এই প্রথম বলেই আমি মনে করি।”
“এইটা মনে হচ্ছে, আমার কাছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি দলকে কনডেম করার জন্যই ইনটেনশনালি এটা এখানে প্লেস করেছেন” বলেন মি. তাহের।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার
কায়সার কামাল তাকে স্মরণ করিয়ে বলেন, সংসদের বিধান অনুযায়ী ৩০০ বিধিতে কথা বললে সে নিয়ে প্রশ্ন করা যায় না।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মি. তাহের শিবির নেতা জিসান
মিয়া প্রধানের অবস্থান জানতে চান ।
তিনি অভিযোগ করেন, “কুমিল্লার পুলিশ জিসানের
সাথে ওই মেয়েটার সাথে কারো সাথেই কথা বলতে দিচ্ছে না। কিন্তু এটা কেন? এখানে কি
কোনো প্লট তৈরি হচ্ছে? আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা মনে হচ্ছে, ওনারা একটা
প্লট তৈরি করার জন্যই পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই লাইনে আলোচনা করে এই কাজটি
করেছেন।”
ছবির উৎস, Screen Grab
ছবির ক্যাপশান, সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
অতি দ্রুতই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হবে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবির উৎস, Screen Grab
ছবির ক্যাপশান, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
দুবাইয়ে গ্রেফতারকৃত পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদকে অতি দ্রুতই দেশে ফেরত আনা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সাবেক আইজিপির গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করেন।
পরে তিনি জানান, রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছিল গ্রেফতারের জন্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গত ১২ই জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টের জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি আবুধাবি হতে প্রেরিত একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন”।
তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ আবেদন করে এবং আবুধাবির সাথে সমন্বয় পূর্বক অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।
দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার
ছবির উৎস, BENAZIR AHMED FACEBOOK Page
ছবির ক্যাপশান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের
দায়ের করা একটি মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে তাকে গ্রেফতার করা
হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন
আহমদ বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “প্রত্যার্পণ
চুক্তির আওতায় কূটনৈতিক চ্যানেলে তাকে দেশে ফেরত আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”
এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের
সূত্রগুলো বলছে, গত ১২ই জুন ইন্টারপোল বাংলাদেশের পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে
অবহিত করেছে।
মি. আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল
থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ছিলেন। পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেনজীর আহমেদ।
১৯৮৮ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়া মি. আহমেদকে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে প্রভাবশালী আইজিপি’, যার বক্তৃতা ও বিবৃতিতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ ছিলো প্রায় নিয়মিত ঘটনা।
২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ।
এরপর ওই বছরের ১৫ই এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের ক্রোকাদেশের প্রেক্ষিতে মি. আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছিল ঢাকার একটি আদালত।
২০২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর আইজিপির পদ থেকে অবসরে গিয়েছিলেন মি. আহমেদ।
এর কিছুদিন পরে ঢাকার একটি পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাপক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করে রিপোর্ট প্রকাশ করলে তা নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় হয়েছিল।
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে
ছবির উৎস, ROMIZ HUSSAIN
ছবির ক্যাপশান, প্রধান আসামী সোহেল রানা
ঢাকায় পল্লবীতে শিশু
রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির জেল আপিল
শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট।
রোববার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
আসামিদের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
গত বৃহস্পতিবার কারা কর্তৃপক্ষের
মাধ্যমে আপিল করেন তারা।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল
কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপিল আবেদনের শুনানি শেষ করে রায় কার্যকর
দেখতে চায় রাষ্ট্রপক্ষ।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি
বলেন, “আদেশটি তারা(কোর্ট) সেকশনে পাঠিয়ে দেবেন।
আমরা প্রত্যাশা করি, সেটি যাওয়ার পরেই রামিসা হত্যা মামলার
মৃত্যুদণ্ড রেফারেন্স শুনানির প্রস্তুতির কাজ অনেক দূর এগিয়ে যাবে, পেপারবুক তৈরি হয়ে যাবে।”
প্রত্যাশিত দুই
কার্যদিবসের মধ্যে পেপারবুক তৈরির কাজ সম্পন্ন না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি
জানান, আপিলটা মঞ্জুর হয়েছে এবং সেই আপিলটা মৃত্যুদণ্ডের রেফারেন্সের সঙ্গেই
শুনানি হবে।
“কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী
যে দুই কার্যদিবসের কথা বলা হয়েছিল, সেটি হয়নি। কারণ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জেল আপিল করার জন্য সাতদিন
সময় থাকে। আইনি বাধ্যবাধকতার ওই সময়টুকু তাদের দিতে হবে” বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
ছবির উৎস, MUNIRUZ ZAMAN
ছবির ক্যাপশান, সুপ্রিম কোর্ট
বিবিসি বাংলার লাইভ
বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় আপনাদের স্বাগত। দেশ ও বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ঘটনার সর্বশেষ খবর পেতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার এই পাতায়।