তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জবাবে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

Published
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

তেহরান গত দুদিনে দুই বার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে মার্কিন বাহিনী পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

এছাড়া ইরানের উপসাগরীয় উপকূলের কাছে প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খারগ দ্বীপের কাছে আরও একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।

জবাবে তেহরান জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করেছে।

গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছিল।

এশিয়ার বাজারে দিনের শুরুতেই তেলের দাম বেড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম দেড় শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছেছে।

জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান থেকে জর্ডানের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে।

ইরান আরও প্রতিশোধমূলক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছে থাকা মার্কিন-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর ক্রুদের সতর্ক করে বলেছে, "তারা নোঙর করা অবস্থায় থাকুক কিংবা বন্দরে অবস্থান করুক- অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে চলে যেতে হবে, কারণ এগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।"

ইরান সম্প্রতি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জের ধরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

সেন্টকম তখন জানিয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সফলভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা যে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে, সেগুলো 'বহু বিলিয়ন ডলারের একটি ছায়া নেটওয়ার্কের অংশ', যা আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করে।

সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় যে ইরানি ট্যাংকারটি আক্রান্ত হয়েছে, সেটি খারগ দ্বীপের কাছে ছিল। খারগ দ্বীপ ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল হিসেবে কাজ করে।

দেশটির মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে রপ্তানি করা হয়। মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সেখানে পৌঁছানো হয়।

আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে তেলের দামের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে ৭৩ জন আহত হয়েছে।

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামোতে আগুন ধরে যায়।

সৌদি সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, এর ফলে কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, পরিস্থিতি 'খুবই সরল'।

কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের রুবিও বলেছেন, "ইরান বারবার মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। আর তারা যতবারই এমন করবে বা করার চেষ্টা করবে, ততবারই তারা ট্যাংকার হারাবে। এবং আমি মনে করি, আজও আপনারা সেটি দেখতে পাবেন।"

মঙ্গলবারের মার্কিন হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছিল, তারা হরমুজ প্রণালিতে একটি চালকবিহীন মার্কিন সাবমেরিন দখল করেছে।

সেন্টকম-এর মুখপাত্র মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, "মার্কিন বাহিনী পরিচালিত পানির নিচের ড্রোনটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে গিয়েছিল।"

তিনি বলেন, আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণ এবং চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য ড্রোনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল।

তিনি আরও জানান, বিকল হওয়া ড্রোনটি ছিল একটি পুরনো মডেলের। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা ছিল না এবং এতে কোনো শ্রেণিবদ্ধ 'সোনার বা রাডার' সরঞ্জামও ছিল না।

তিনি জানান, আঞ্চলিক জলসীমায় মার্কিন অভিযান অব্যাহত রয়েছে।