হিন্দুদের ওপর সহিংসতা লক্ষ্যভিত্তিক নির্যাতনে রূপান্তরিত, দাবি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের
বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দাবি করেছে, গত ২৩ মাস বা প্রায় দুই বছরের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যে প্রায় তিন হাজার হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার ৯১ শতাংশই ঘটেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাসেই ৭৩ দশমিক সাত শতাংশ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে এই বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হিসাব তুলে ধরে পরিষদ দাবি করেছে, এখন হামলার ধরন বা সহিংসতা গণআক্রমণ থেকে লক্ষ্যভিত্তিক নির্যাতনে রূপান্তরিত হয়েছে। গত ছয় মাসে সারা দেশে ২৫৭টি সহিংসতার (আংশিক) ঘটনা ঘটেছে বলে পরিষদ দাবি করেছে।
সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে করা একটি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সাল ও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সহিংসতার ঘটনা প্রায় একই রকম রয়েছে। এর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ২০২৬ সালে হত্যার শিকার, উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, হামলা/হত্যার হুমকি/নির্যাতন, উপাসনালয়ের জমি দখল/দখলের চেষ্টা ২০২৫ সালের চেয়ে বেশি।
সেখানে বলা হয়েছে, ''২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ৩১শে ডিসেম্বর- এ ৫ মাস, ২০২৫ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১শে ডিসেম্বর- এ ১২ মাস এবং চলতি বছরের প্রথম ৬ মাস- এ ২৩ মাসের তুলনামূলক চিত্র সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে বলা হয়, এ সময়ে সংঘটিত মোট ২৯৬৩টি ঘটনার ৭৩.৭% সংঘটিত হয়েছে ৫ আগস্ট পরবর্তী ৫ মাসে।''
''এ সময়কালটি ছিল ব্যাপক আকারের গণ সহিংসতার পর্যায়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় স্থাপনা। ২০২৫ সালে সংঘটিত হয়েছে মোট ঘটনার ১৭.৬%| ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সংঘটিত হয়েছে মোট ঘটনার ৮.৭%। ২০২৪ সালের সহিংসতার মাত্রা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪.২ গুণ বেশি ছিল।''
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, ''মোট সহিসংতার প্রায় ৭০% ছিল বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা; প্রায় ১০% ঘটনা ধর্মীয় উপাসনালয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে; প্রতি ২১টি ঘটনায় গড়ে ১ জন মানুষ নিহত হয়েছে; প্রতি ১০টি ঘটনার মধ্যে প্রায় ১টি ধর্মীয় স্থাপনার উপর হামলা ছিল।''
গত তিন বছরের ঘটনার তুলনামূূলক পর্যালোচনা করে দাবি করা হয়েছে, পাঁচই অগাস্ট থেকে ১৮ মাসে মোট ঘটনার সংখ্য্যা কমলেও হত্যাকাণ্ড, নারী নির্যাতন, সম্পত্তি দখল এবং ধর্মঅবমাননার অভিযোগে হয়রানীর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে অর্থাৎ সহিংসতা গণআক্রমণ থেকে লক্ষ্যভিত্তিক নির্যাতনে রূপান্তরিত হয়েছে।
''২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসের তথ্যে দেখা যায় যে, সহিংসতার সামগ্রিক সংখ্যা স্থিতিশীল থাকলেও প্রাণহানি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার হার উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনার অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে এ সময়। এসব ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার জন্যে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি,'' হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।