বাব আল-মান্দেব প্রণালি: হুথিরা কি ইরানের 'আহ্বানে' এই নৌপথ বন্ধ করে দিতে পারে?

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের একটি নৌপথ নিয়ে ইরানের মিত্রদের হুমকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ইরান এরই মধ্যে কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে পারস্য উপসাগর থেকে জাহাজগুলো চলাচল কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রধান মিত্ররা আরব উপদ্বীপের অন্য প্রান্তে সমুদ্রপথে আরেকটি নতুন ফ্রন্ট খোলার হুমকি দিচ্ছে।

তেহরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি, যারা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি 'সামুদ্রিক অবরোধ' ঘোষণা করেছে।

এই নৌ অবরোধ 'লঙ্ঘন' করার কারণে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবিও করেছে হুথিরা।

তাদের হুমকির পর সোমবার থেকে লোহিত সাগরে বেশকিছু তেলবাহী ট্যাংকার ইউ-টার্ন নিয়েছে বলেও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা গেছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরকে যুক্ত করেছে এবং সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার অন্যতম পথও এটি। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ১২ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

সোমবার, ২০শে জুলাই, হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারেয়া বলেন, হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বন্দর ও বিমানবন্দর অবরোধের প্রতিশোধ হিসেবে নৌ অবরোধের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জবাবে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, দেশটি "আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে নিজেদের জাহাজ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে"।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা থেকে সরকারকে উৎখাত করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যা দেশটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।

২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব রাষ্ট্রগুলোর জোট উৎখাত হওয়ার সরকারকে পুনর্বহাল করার চেষ্টা করে হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও তীব্র হয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এক লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং দুই কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নিয়ে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন।

দুটি জাহাজে হামলার দাবি হুথিদের

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি ঘোষণা করেছেন যে, ঘোষিত নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করার কারণে গোষ্ঠীটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তিনি আরও বলেন, হুথিরা তাদের নৌ অভিযান অব্যাহত রাখবে এবং তারা যেটিকে "অবরোধের জবাবে অবরোধ" নীতি বলে বর্ণনা করেছেন, তা বাস্তবায়নও চালিয়ে যাবে।

এদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ এজেন্সি বৃহস্পতিবার সকালে হুথিদের উদ্ধৃত করে লিখেছে, "বিশেষ একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে আমরা 'এনসেলা' ও 'লাইলিয়া' নামের দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করেছি, কারণ তারা সৌদি জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে।"

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস অর্গানাইজেশন (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, বুধবার রাতে সৌদি আরবের আল-শাকিক উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

সংস্থাটির মতে, হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

একই সময়ে কিছু ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে একটি জ্বলন্ত তেলবাহী ট্যাংকার এবং তার ডেকে বড় ধরনের আগুন দেখা যাচ্ছে।

ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে "নৌ অবরোধ" ঘোষণার পর থেকে ইয়েমেনের কাছাকাছি এলাকায় অন্তত সাতটি তেলবাহী ট্যাংকার ইউ-টার্ন নিয়েছে বলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা গেছে।

সব জাহাজই সৌদি আরবের বন্দরগুলোর দিকে যাচ্ছিল অথবা সেখান থেকে আসছিল। অবরোধ ঘোষণার পর তারা হঠাৎ করেই নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হুথিরা অবরোধ ঘোষণা করার আগের দিন বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে ২০টি জাহাজ লোহিত সাগরে প্রবেশ করে এবং ২২টি জাহাজ সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।

হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে?

প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, হুথিরা কি সত্যিই সৌদি জাহাজের জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে?

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ফারেয়া আল-মুসলিমি বিবিসি নিউজ ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে বলেন, এই গোষ্ঠীর এমন বিঘ্ন ঘটানোর সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।

তিনি বলেন, "হুথিদের কাছে মাইন রয়েছে এবং গত কয়েক বছরে তারা তাদের সামুদ্রিক ড্রোন সক্ষমতা উন্নত করেছে।"

পূর্ণাঙ্গ অবরোধ কার্যকর না করেও তারা সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, "তাদের শুধু একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেই হবে। প্রতীকী কিছু হলেও তা বীমা প্রতিষ্ঠান, নৌপরিবহন কোম্পানি ও তেল সরবরাহকারীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি করবে। মানুষ যতটা ভাবছে, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হবে।"

"যুদ্ধের পর ইরানের কৌশল হলো যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করা। তারা সবাইকে এই সংঘাতে টেনে আনতে চাইছে।"

ইরান এর আগেও "অন্য ফ্রন্ট খোলার" হুমকি দিয়েছে।

ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আনওয়াত আল-আনসি একমত যে, হুথিরা সৌদিদের সংঘাতে টেনে আনার জন্য তেহরানের নির্দেশই বাস্তবায়ন করছে।

আনসি বিবিসি নিউজ ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে বলেন, "ইরান এই উত্তেজনা বাড়াতে চায়, কারণ এখন তাদের হাতে এটিই একমাত্র বিকল্প। সৌদিরা তেহরানের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ানো এড়িয়ে গেছে। কিন্তু হুথিরা যদি সত্যিই হামলা চালায়, তাহলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের পদক্ষেপ নিতেই হবে।"

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইয়েমেনের হুথিরা ইরানের "প্ররোচনায়" লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান (আসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস) সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বলেন, "সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোয় হুথিরা মূলত বিচক্ষণতা দেখিয়েছে এবং এর বাইরে থেকেছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তারা প্রতারিত হয়েছে এবং সৌদি আরব ও তার জাহাজগুলোতে হামলার পথে গেছে।"

তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, "সত্যি বলতে, আমার ধারণা হুথিরা ইরানের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছে এবং এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।"

বাব আল-মান্দেব এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরের আরব ভূখণ্ডের তীরে ইয়েমেন এবং আফ্রিকা অঞ্চলের তীরে জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মাঝখানে অবস্থিত।

ভারত মহাসাগর ও এডেন উপসাগর থেকে আসা জাহাজগুলোকে সুয়েজ খালে প্রবেশ করতে হলে এই প্রণালি অতিক্রম করতেই হয়।

১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩৬ কিলোমিটার প্রশস্ত এই প্রণালি ১৮৬৯ সালে সুয়েজ খাল চালু হওয়ার পর বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক অপরিহার্য সংযোগপথে পরিণত হয়, কারণ এটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সমুদ্রপথ তৈরি করে।

বর্তমানে লোহিত সাগর করিডর বিশ্বের ব্যস্ততম নৌপথগুলোর একটি এবং বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সামুদ্রিক চলাচল এই পথ দিয়ে হয়।

যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেল পরিবহনের ২০ শতাংশ বহন করে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের আরও ১২ শতাংশ বিঘ্নিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলো থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্দেশ্যে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এ ছাড়া বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের আট শতাংশও এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধমনি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৈশ্বিক বাণিজ্যে লোহিত সাগরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

সৌদি আরব ইয়ানবু বন্দর থেকে সৌদি তেল পরিবহনের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে বাব আল-মান্দেব ব্যবহার শুরু করেছে।

রিয়াদ পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সেখানে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাঠায়।

অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস ছাড়াও বাব আল-মান্দেব প্রণালি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে প্রধান বাণিজ্যিক সংযোগপথের অংশ। প্রতিদিন কয়েক ডজন পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করে।

এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে ২০২১ সালের ঘটনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন পানামার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এভার গিভেন তীরে আটকে গিয়ে সুয়েজ খাল বন্ধ করে দেয়।

এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর জট তৈরি হয়েছিল এবং তেলসহ নানা পণ্যের পরিবহনে ব্যয় ও বিলম্ব বেড়ে গিয়েছিল।

হুথিদের ভূমিকা

বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে কোনো হামলা হলে তা সম্ভবত ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠী হুথিদের মাধ্যমেই ঘটবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন হুথি নেতা রয়টার্সকে বলেন, তেহরানকে সমর্থন জানাতে বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য গোষ্ঠীটি "সামরিকভাবে প্রস্তুত"।

২৮শে মার্চ হুথিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। এটি ছিল ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তাদের প্রথম সম্পৃক্ততা। ইসরায়েল ওই সময় জানায়, ইয়েমেন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে।

গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল নিয়ন্ত্রণ করে এবং গাজা যুদ্ধের সময়ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

একাই হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ১০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, দুটি জাহাজ ডুবিয়ে দেয় এবং চারজন নাবিককে হত্যা করে।

২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে গোষ্ঠীটি একটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে লোহিত সাগরে জাপানের পরিচালিত ও ব্রিটিশ-মালিকানাধীন একটি কার্গো জাহাজ ছিনতাই করে।

যদিও হুথিরা দাবি করেছিল যে তারা কেবল ইসরায়েল-সংযুক্ত জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, এসব হামলাকে ব্যাপকভাবে নির্বিচার হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এর ফলে বিশ্বের কয়েকটি বৃহত্তম নৌপরিবহন ও তেল কোম্পানি ওই এলাকা দিয়ে চলাচল স্থগিত করে।

পরবর্তীতে এসব হামলা কমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে হুথিরা পিছু হটেছে, আর হুথিরা পাল্টা দাবি করে যে যুক্তরাষ্ট্রই সরে গেছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হামলা আবারও শুরু হতে পারে।

বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেট বলেন, "যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইয়েমেনের হুথিরা এতে যোগ দেবে, এমন প্রত্যাশা সব সময়ই ছিল।"

তিনি আরও বলেন, "উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনে প্রভাবশালী হুথিরা এখনো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করেনি, আর সেটি হলো বাব আল-মান্দেব হয়ে চলাচলকারী নৌযান বিঘ্নিত করার সক্ষমতা। এই সামুদ্রিক সংকটবিন্দু লোহিত সাগরকে বৈশ্বিক বাণিজ্যপথের সঙ্গে যুক্ত করে।"

২৬শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিল- "অক্টোবর ২০২৫-এ ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে হুথি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না চালালেও, তারা এখনো এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ, যার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজও রয়েছে, তার জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে।"

চাপে বৈশ্বিক নৌপরিবহন

আরবি ভাষায় বাব আল-মান্দেবের অর্থ 'অশ্রুর দ্বার' বা 'শোকের দ্বার'।

শক্তিশালী স্রোত, অনিশ্চিত বাতাস, জলদস্যুতা ও সংঘাতের মতো ঝুঁকির কারণেই এই নাম।

২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর আশপাশের জলসীমায় বহু জলদস্যু হামলার ঘটনা ঘটে। বেশিরভাগই ছিল সোমালীয় গোষ্ঠীগুলোর, যারা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য জাহাজের নাবিকদের অপহরণ করত।

এসব ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নৌপরিবহন কোম্পানিগুলো ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করে।

এখন এই পথ অবরুদ্ধ হলে জ্বালানি বাজারের সংকট আরও তীব্র হবে, যা হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌপরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সংকটের আগে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১১৫ ডলারেরও বেশি হয়েছে।

ভোক্তা পণ্য থেকে কৃষিপণ্য পর্যন্ত বিস্তৃত পরিসরের পণ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যও এর প্রভাব অনুভব করছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নতুন বিঘ্ন তৈরি হলে তা দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও গভীর করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের মোহাম্মদ আলবাশা বলেন, হুথিরা সত্যিই সৌদি আরবগামী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তিনি রয়টার্সকে বলেন, "কোনো জাহাজে হামলা না হলেও শুধু এই ঘোষণাই নৌপরিবহন ব্যাহত করতে পারে এবং সৌদি বন্দরগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। হুথিরা হুমকি থেকে সরাসরি পদক্ষেপে যাবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।"